সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘বিশ্বনেতা জাতির পিতা শেখ মুজিব, আমি নই’

সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ | ৯:২৭ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্বনেতা হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি বিশ্বনেতা নন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, নিজের জন্য আমার কোনো অনুভূতি নেই। বিশ্বনেতা জাতির পিতাই, আমি নই— এটুকু বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বের হোসেন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন- ‘খালেদা জিয়ার মতো ১২টা পর্যন্ত ঘুমালে কি খুশি হতেন?’

বিজ্ঞাপন

মোকাব্বের হোসেন সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, বিশ্বনেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বিশ্বনেতা শেখ হাসিনা— এই দুইটিকে আপনি কিভাবে হৃদয়ে ধারণ করছেন বা এ বিষয়ে আপনার অনুভূতি কী?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সারাটা জীবন উৎসর্গ করেছেন এ দেশের মানুষের জন্য। অনেক জেল-জুলুম-অত্যাচার সহ্য করে এবং জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে তিনি এই দেশের মানুষকে উন্নত জীবন দিতে চেয়েছিলেন। এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। দেশের ৮২ ভাগ মানুষই ছিল দারিদ্র্যসীমার নিচে, তাদের পেটে ভাত ছিল না। ছিন্নবস্ত্র, পরনের কাপড় নেই, মাথা গোঁজার ঠাই নেই, চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই, শিক্ষার সুবিধা নেই— এমন একটি জাতিকে তিনি মুক্ত করেছিলেন তার জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে। নিজের জীবনের দিকে কখনো তিনি ফিরে তাকাননি।

আরও পড়ুন- ‘ডেঙ্গুতে ফিলিপাইনের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে দেইনি’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা কেবল দেশ স্বাধীন করেননি, তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে অর্থনৈতিভাবে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখনই ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। যারা এ দেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারা শুধু জাতির পিতা না, আমরা দুই বোন ছাড়া আমাদের পরিবারসহ আত্মীয়-স্বজনদের নৃশংসভাবে হত্যা করল। এর ফলে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়নের যে ধারা, সেই ধারাটা স্তব্ধ হয়ে গেল। আর এর ভুক্তভোগী হলো এই বাংলাদেশের মানুষ।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জাতির পিতা যেভাবে এ দেশের মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাতে তার সঙ্গে আর কারও তুলনা হয় না। তিনি যে কাজ করতে চেয়েছিলেন, তার কন্যা হিসেবে আমি শুধু সেই অসমাপ্ত কাজটুকু করে যেতে চাই। যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীন করেছিলেন— এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, এ দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা— জাতির পিতার সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করাই আমার লক্ষ্য।

‘এখানে আমি কী পেলাম, না পেলাম বা আমি কী হলাম, না হলাম— এগুলো নিয়ে আমি কখনো চিন্তাও করি না। এগুলো নিয়ে আমার ভাবনার সময়ও নেই। আমার সময় দেশকে ঘিরে, দেশের মানুষকে ঘিরে, দেশের কল্যাণে,’— বলেন সংসদ নেতা।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন