বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে ৫ হাসপাতাল-স্কুলে কোয়ারেনটাইন, সহায়তায় সেনাবাহিনী

March 24, 2020 | 5:30 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম নগরীতে টহল দেবে সেনাবাহিনী। এছাড়া বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেনটাইন নিশ্চিতের কাজেও বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা দেবে সেনাবাহিনী। এদিকে চট্টগ্রামের পাঁচটি স্থান প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটাইনের জন্য নির্ধারণ করেছে জেলা প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সেনাবাহিনী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় এবং কিভাবে কাজ করব, সেটার কৌশল নির্ধারণের জন্য বসেছিলামে। কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা প্যাট্রলিং করবে। যেহেতু শহরে পাবলিকের মুভমেন্ট আছে, তারা অবশ্যই প্যাট্রলিং করবে। কোনো জায়গায় বেশি লোক যেন জড়ো হতে না পারে, ৫-৭ জন যেন জড়ো হতে না পারে, নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে যেন চলাফেরা করে এবং কাছাকাছি যেন আসতে না পারে, সেটা মূলত সেনাবাহিনী নিশ্চিত করবে।’

বিজ্ঞাপন

‘সেনাবাহিনীকে বলা হয়েছে, হোম কোয়ারেনটাইনে যারা আছে, অনেকেই আদেশ মানছে না। আমরা অভিযান চালাচ্ছি। ৪০-৫০ জনকে সাজা দিয়েছি। এরপরও অনেকেই হোম কোয়ারেনটাইনে থাকছে না। এই হোম কোয়ারেনটাইন নিশ্চিতের কাজে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করবে। যারা হোম কোয়ারেনটাইন মানবে না, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটাইনে নিয়ে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনী আমাদের সহযোগিতা করবে। পরবর্তী সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া গেলে তাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনী আমাদের সহযোগিতা করবে।’

ব্যারাকের বাইরে চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কোথায় হবে, জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক সারাবাংলাকে বলেন, ‘এটা উনারা আগামীকাল (বুধবার) মাঠের পরিস্থিতি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবেন। কয়টা ক্যাম্প হবে বা কোথায় হবে, উনাদের রিকয়ারমেন্ট অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে।’

পাঁচ স্থানে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটাইন

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন জানিয়েছেন, বিদেশ থেকে ফিরে যারা হোম কোয়ারেনটাইন মানছেন না, তাদের এখন থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটাইনে পাঠানো হবে। এছাড়া যদি করোনা রোগী শনাক্ত হয় এবং আইসোলেশনে পাঠানোর মতো কাউকে পাওয়া যায়, তাহলে তাদের পুরো পরিবারকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটাইনে পাঠানো হবে। তাদের রাখার জন্য যেসব জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে— নগরীর সিআরবিতে রেলওয়ে হাসপাতাল, হালিশহরে পিএইচ আমিন একাডেমি, নগরীর বহদ্দারহাটে সিডিএ গার্লস স্কুল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল এবং পটিয়া উপজেলায় মোজাফফরাবাদ স্কুল।

আর শনাক্ত রোগী আইসোলেশনের জন্য দুইটি হাসপাতালে ২৫০ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। জেনারেল হাসপাতালে ১৫০ ও ফৌজদারহাটে বিআইটিআইডিতে ১০০ শয্যা আইসোলেশনে রাখার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল  এবং চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ‘ফ্লু কর্নার’ চালু করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সুসংবাদ হচ্ছে— চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত আইসোলেশনে পাঠানোর মতো কাউকে পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম জেলায় গত তিন দিন ধরে কোনো প্রবাসী প্রবেশ করেননি। যে ৯৭৩ জনকে হোম কোয়ারেনটাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তারাই আছেন। এটাও একটা সুসংবাদ।’

উপজেলা পর্যায়ে কেউ সংক্রমণ অনুভব করলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার যদি মনে করেন যে তাকে আইসোলেশনে পাঠাতে হবে, তখন আমাদের অ্যাম্বুলেন্স গিয়ে তাকে নিয়ে আসবে। আমাদের ১০টি অ্যাম্বুলেন্স রেডি আছে। তবে এটা পুরোটাই স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব।

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি এড়াতে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডিতে ডাক্তারদের জন্য পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) পাঠানো হয়েছে। আরও পিপিই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আসবে। এছাড়া দুয়েকদিনের মধ্যে করোনা শনাক্তকরণ কিটও আসবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

সভায় সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহরিয়ার, ৩৪ স্পেশাল ওয়ার্কসের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তানভীর, কুমিল্লার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন