বিজ্ঞাপন

করোনাকালেও রফতানি আয়ে আশার আলো

May 3, 2021 | 10:48 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির মধ্যে দেশের রফতানি আয়ে বেশ ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। গত বছর লকডাউনে এগ্রিল মাসের রফতানি আয় ৫২ কোটি ডলারে নেমে যায়। তবে এ বছর এপ্রিল মাসে ৩১৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এ আয় গেল বছরের তুলনায় ৫০৩ শতাশ বেশি। শুধু তাই নয়, ২০১৯ সালের এপ্রিলে ৩০৮ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছিল। সেই তুলনায়ও রফতানি আয় বেড়েছে এক দশমিক ৬২ শতাংশ। তার মানে রফতানি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক পর্যায়ে আছে দেশ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৩ মে) রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইপিবি’র পরিসংখ্যান আরও বলছে, তৈরি পোশাক, পাট ও পাটপণ্য, চামড়া ও চামড়াপণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্য, রাসায়নিক পণ্য ও প্রকৌশল পণ্যের রফতানি ইতিবাচক ধারায় ফেরার কারণেই সার্বিকভাবে পণ্য রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে হিমায়িত খাদ্যের রফতানি কমেছে। সার্বিকভাবে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) তিন হাজার ২০৭ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আট দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দুই হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ছয় দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি।

বিজ্ঞাপন

ইপিবি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২০২১ অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) দুই দশমিক ৫৫ শতাংশ কমেছিল তৈরি পোশাক খাতের রফতানি। অন্যদিকে হিমায়িত মাছসহ সবধরনের হিমায়িত খাদ্যের রফতানি কমে ৯ শতাংশের মতো। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ছয় শতাংশের বেশি রফতানি কমেছে। ফার্নিচারের রফতানি কমেছে ১৩ শতাংশ। আর সবচেয়ে বেশি রফতানি কমেছে জাহাজ শিল্পে। এই খাতে রফতানি কমেছে ৯৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ১০৩ কোটি ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। এছাড়া ৯৫ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল রফতানি হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৫৪ শতাংশের বেশি।

বিজ্ঞাপন

ইপিবি’র তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে ৭৬ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়া পণ্য, ৪৩ কোটি ডলারের প্রকৌশল পণ্য, ৩৯ কোটি ডলারের হিমায়িত খাদ্য রফতানি হয়েছে। এর মধ্যে চামড়া ও চামড়া পণ্যে সাড়ে আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অবশ্য চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে আরও ৮৯৩ কোটি ডলার প্রয়োজন। মে ও জুন মাসে এই পরিমাণ রফতানি অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, গত বছরের শুরুতে চীন থেকে সারাবিশ্বে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর মার্চে তা বাংলাদেশের রপ্তানিখাতকেও আক্রান্ত করে। তখন একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল হচ্ছিল, নতুন ক্রয়াদেশ বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। এমনকি রপ্তানির জন্য প্রস্তুতি পণ্যগুলোও জাহাজিকরণ স্থগিত করেছিল বিদেশি ক্রেতারা। এক বছর পর আবারও বাড়তে শুরু করেছে মহামারির বিস্তার ও মৃত্যুহার। তবে চলতি বছরের মার্চ মাসেও রফতানি আয়ে ইতিবাচক ধারা ছিল, যা এপ্রিলেও নতুন আশার সঞ্চার তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/ইএইচটি/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন