বিজ্ঞাপন

ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়েছে ৫০ বিঘা জমির ধান

April 21, 2022 | 10:48 am

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

গাইবান্ধা: জেলার সাঘাটা উপজেলায় অনুমোদন বিহীন মেসার্স কিএমকে-২ ব্রিকস ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৫০ বিঘা জমির বোরোধান পুড়ে গেছে। ফলে স্বপ্নের ফসল হারিয়ে হতাশ কৃষকরা। অনুমোদন ছাড়া ইটভাটাটি চলছে গত ৭ বছর থেকে। কৃষকদের ব্যপক ক্ষতি হলেও ইটভাটা কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় কৃষকরা মুখ খোলার সাহস পাননি। এ পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধিরা।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও কৃষি শ্রমিক সিরাজুল ইসলাম। উপজেলার টেপাপদুমশহর গ্রামে তার বাড়ি। কষ্টের সংসারে ধার করে দুই বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। এই ধান বেঁচে কিছুটা লাভের আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন পুড়ে গেছে ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে। ধান পাকার আগেই পাতা ও শীষ পুরে তার দুই বিঘা জমির ধানগাছ বিবর্ণ রঙ ধারণ করেছে।

এ বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এখন আমরা কি খাবো? কে দেখবে আমাদের কষ্ট। গত ৭ বছরে এই ইটভাটার কারণে আমরা ধানচাষে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছি। এ বছর এই গ্রামে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে । কে দেখবে আমাদের দিকে? ইটভাটার মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের ক্ষতি তাদের কাছে কিছুই মনে হয় না।’

বিজ্ঞাপন

সিরাজুল ইসলামের মতো এই গ্রামের ময়নুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মহি বেগমসহ প্রায় শতাধিক বোরোচাষীর একই অবস্থা। বোরো চাষি হাসিবুর ইসলাম বলেন, ‘ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসের কারণে আমার ৫ বিঘা জমির বোরোধান সম্পুর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়াও আম-কাঁঠাল, চালতা, জলপাই গাছসহ বাশঝাড়ের সব পাতা পুড়েগেছে। এতে আমার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা এই ইটভাটাটি বন্ধে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

কৃষক আব্দুল মালেক জাগো নিউজবে বলেন ইট ভাটার কারনে এই গ্রামের ৫০/৬০ বিঘঅ জমির ধান পুড়ে গেছে। কিন্তু ভাটার মালিক বিষয়টি নজরে না নিয়ে কৃষকদের ক্ষতি পুরনের নামে তাল বাহনা করে আসছে। আমরা ক্ষতি পুরন চাইনা । এই ইটভাটাটি বন্ধ করতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

বিজ্ঞাপন

কাশেম উদ্দিন নামের এক কৃষক জানান, ‘এই ইটভাটাটি স্থানীয় পদুমশহর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার রফিকুল ইসলাম দুদুর জমিতে অবস্থিত। কৃষি জমিতে ইটভাটা করার নিয়ম না থাকলেও এই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য প্রভাবখাটিয়ে তার জমিতে ইটভাটা তৈরি করে গত ৭ বছরে এই গ্রামসহ আশে পাশের কয়েকটি গ্রামের কৃষি খাতের ব্যপক ক্ষতি করে। তবে আমরা ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারি না।’

নিজ জায়গায় ইটভাটার ফলে কৃষকদের ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে পদুমশহরের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম দুদু বলেন, ‘ইটভাটাটি আমার জায়গায় গত ১০ বছর থেকে চলছে আমি ভাড়া দিয়েছি আমি মালিক না। মেসার্স কিএমকে-২ ব্রিকস ইটভাটার ভাটার মালিক গাইবান্ধার শহরের বাসিন্দা আলহাজ মো. মনির হোসেন মনির। ইটভাটার কারণে কৃষকদের যা ক্ষতি হয়েছে মালিক ও কৃষকদের নিয়ে আলোচনা করে ক্ষতিপুরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

অভিযুক্ত মেসার্স কিএমকে-২ ব্রিকস ইটভাটার মালিক আলহাজ মোঃ মনির হোসেন মনিরের সাথে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি । এই ইটভাটার দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার বিদুৎ মিয়াও সাংবাদিকের ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি।

পদুমশহরের ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, এই বিষয়ে কৃষকরা আমাকে জানিয়েছে। আমি বিষয়টি কৃষি অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি। কৃষকদের ক্ষতিপুরণসহ ইউভাটারি বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে কৃষকরে পাশে থাকবো ।’

বিজ্ঞাপন

এই বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাদেকুজ্জামান বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ইটাভাটাটির কারণে কি পরিমাণ জমির ক্ষতি হয়েছে তার জরিপ চলছে। বিষটি নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছি। এই উপজেলার কোনো ইটভাটার অনুমোদন এই ইটভাটা বন্ধের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিন্ধান্ত নিবেন।’

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, জেলা প্রশাসক মহাদয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইটভাটটি বন্ধের সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তলিকা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩৮ জন কৃষকের তালিকা এসেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপুরণের ব্যবস্থা করব।’

সারাবাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন