বিজ্ঞাপন

দেশে ৩ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতি

August 1, 2022 | 10:56 pm

গোলাম সামদানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বাণিজ্য ঘাটতিতে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সদ্যবিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৩২৪ কোটি ৯০ লাখ বা ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা ধরে) এই অর্থের পরিমাণ তিন লাখ ১৪ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছর বাণিজ্য ঘাটতি ছিল দুই হাজার ৩৭৭ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ৯১৪ কোটি ডলার।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১ আগস্ট) ২০২১-২২ অর্থবছরের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট) ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাণিজ্য ঘাটতির এই অসম চিত্র উঠে এসেছে।

এ ব্যাপারে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম সোমবার রাতে সারাবাংলাকে বলেন, ‘সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে রফতানি আয় ভালো থাকলেও অতিরিক্ত আমদানির ফলে রেকর্ড পরিমাণ বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিকভাবে পণ্যর দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানির পরিমাণের পাশাপাশি ব্যয়ও বেড়েছে। বিপরীতে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। ফলে অতিমাত্রায় আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে ঝুঁকিও বাড়ছে। সেইসঙ্গে রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। ফলে মূল্যস্ফীতির পরিমাণ আরও বাড়ছে। এতে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা আরও কষ্টকর হয়ে পড়বে।’

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে করণীয় জানতে চাইলে মির্জ্জা আজিজ বলেন, ‘এই মুহূর্তে সরকারের তেমন বেশি কিছু করার নেই। মূল্যসস্ফীতি লাগাম টেনে ধরতে হবে, যা একেবারেই অসম্ভব। এই অবস্থা মোকাবিলার জন্য যতটা সম্ভব অপ্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয় কমিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি প্রান্তিক নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনতে হবে। তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পরিমাণ আরও বাড়বে।’

এদিকে, চলতি হিসাব ভারসাম্যে (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স) বিদায়ী অর্থবছরের ঘাটতির (ঋণাত্মক) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৬৯ কোটি ডলার। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে একই সময়ে ঘাটতি ছিল ৪৫৭ কোটি ডলার। অন্যদিকে, ২০২১-২২ অর্থবছরের সামগ্রিক লেনদেনে (ওভার অল ব্যালেন্স) ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩৮ কোটি ডলার। অথচ ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে এই সূচকে ৯২৭ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলা হযেছে, বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছর দেশে দুই হাজার ১০৩ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরে এসেছিল দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ডলার।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরে রফতানি আয় হয়েছে চার হাজার ৯২৪ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের চেয়ে রফতানি আয় বেড়েছে ৩৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। একই সময় আমদানি ব্যয় হয়েছে আট হাজার ২৪৯ কোটি ডলার। আমদানি বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ। রফতানি চেয়ে আমদানি বৃদ্ধির হার বেশি হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

আলোচিত সময়ে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়েছে। বিদায়ী অর্থবছরের সেবা খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে ৯৯৮ কোটি ডলার। অন্যদিকে, সেবা খাতে দেশের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৩৮৫ কোটি ডলার। সেবা খাতের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৮৭ কোটি ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৩০২ কোটি ডলার।

সারাবাংলা/জিএস/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন