সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ইতালিতে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন

আগস্ট ১৬, ২০১৯ | ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ

সারাবাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ দূতাবাস, রোম এবং ইতালিতে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে জাতীয় শোক দিবস ২০১৯ পালন করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব আবদুস সোবহান সিকদার দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন এবং জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন।

বিজ্ঞাপন

এরপর সন্ধ্যায় একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর গৌরবময় জীবনীর ওপর নির্মিত ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে আলোচনা সভা শুরু হয়। এরপর জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীদের দেওয়া বাণীসমূহ পাঠ করে শোনান দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ। বাণী পাঠের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের উপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বহু সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।

রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বাংলাদেশ সৃষ্টিতে জাতির পিতার অবদানকে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে বলেন, 'বাংলাদেশ মানে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ জন্ম হতো না। বঙ্গবন্ধু একটি স্বপ্ন দেখতেন এবং সে স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে একটি সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলা। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশ উন্নয়নের সকল ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। কিন্তু পুরোপুরি বাস্তবায়নের আগেই তিনি উনার দুই কন্যা বাদে পরিবারের সকল সদস্যসহ শাহাদাত বরণ করেন। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এটি একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। এখন বঙ্গবন্ধু কন্যা নিজেই সেই অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে একটি সুখী-সমৃদ্ধ দেশ বিনির্মাণে নিয়োজিত আছেন।'

বিজ্ঞাপন

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ তারিখে বঙ্গবন্ধুসহ শাহাদাত বরণকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে রোম ও এর পার্শ্ববর্তী শহরে বসবাসরত রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, ইতালির মিলানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল মিলান অফিস মিলনায়তনে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস।

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল মিলান কর্তৃক কন্স্যুলেট মিলনায়াতনে খতমে কোরআন, মিলাদ মাহফিল, বিশেষ মোনাজাত, স্মরণ সভা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল মিলান এর কনসাল জেনারেল ইকবাল আহমেদ, অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্হানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। এরপর জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।

মিলানের স্থানীয় একটি মসজিদ সন্দ্রিওর খতিব মুফতি হোসেন ইমরান বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে নিহত সকল বিদেহী আত্নার মাগফেরাত কামনা করা হয়। পাশাপাশি একটি সুখী, সমৃদ্ধ, দারিদ্র্যমুক্ত, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত সোনার বাংলাদেশ বির্নিমাণের জন্য দোয়া পাঠ করা হয়।

অনুষ্ঠানে শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি, কন্স্যুলেটের সকল সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গ, মিলান বাংলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং তাঁর সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য দিকসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন লোম্বারদিয়া আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লোম্বারদিয়া আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মান্নান মালিকা, ইতালি লোম্বারদিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল কবির জামান, সম্মানিত সদস্য আকরাম হোসেন, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ শিপন, সহসভাপতি খোরসেদ আলম, আবু আলম, যুগ্ন সম্পাদক চঞ্চল রহমান, যুগ্ন সম্পাদক তুহিন মাহামুদ, যুগ্ন সম্পাদক লুৎফর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আরফান সিকদার, প্রচার সম্পাদক জাকির হোসেন মামুন, সহ প্রচার সম্পাদক আব্দুল বাছিত দোলই, মহিলা সম্পাদক আসমা জাকির, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সরোয়ার হোসেন, প্রকাশনা সম্পাদক মুনসুর খালাসি, সদস্য হাজী শাহ আলম, ইউনুছ মোড়ল, সুলতান শরীফ, লোম্বারদিয়া আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শফি উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এনায়েত হোসেন, সদস্য সিরাজুল ইসলাম, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ খান তপু, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, যুগ্ন সম্পাদক মনজুর হোসেন, ভারেজ আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সারাবাংলা/ওএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন