সোমবার ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

‘আশুরায় তাজিয়া মিছিলে থাকবে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা’

সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯ | ২:০৫ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আয়োজিত তাজিয়া মিছিলের জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে মিছিল শুরুর পর মাঝপথে অলিগলি থেকে কাউকে মিছিলে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে হোসাইনী দালানের ইমামবাড়ায় পবিত্র আশুরা উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।

আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজধানীর হোসাইনী দালান, ইমামবাড়া, মিরপুর, বড় কাটারা, ছোট কাটারা ও মোহাম্মদপুর এলাকায় মহরমের ৬ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর প্রত্যেকটি ইমামবাড়া সিসিটিভি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যারা শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন তাদের প্রত্যেককে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরে তল্লাশী হয়ে আসতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, মিছিলে কোনো ধরনের ধাতব বস্তু, চোরা-তরবারি, বর্ষা বা আগুনের কোনো বস্তু আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। আমরা মিছিলে এসব বস্তু বহন করতে দেব না। যে নিশান ব্যবহার করা হয় সে নিশান ১২ ফুট এর বেশি উচ্চতা হবে না। এর বড় কারণ হল ইলেকট্রিক ও টেলিফোনের তার এর সঙ্গে লেগে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং আমরা সকলের সঙ্গে বারংবার আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিশান ১২ ফুট এর উপরে হবে না। মিছিল যে রাস্তা দিয়ে যাবে সে রাস্তাগুলোতে আমাদের চেকপোস্ট থাকবে। রুটগুলোতে আমাদের সদস্যরা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে।

‘শোক মিছিলে যারা যোগ দেবে তাদেরকে শুরু থেকেই যোগ দেওয়ার অনুরোধ করছি আমরা। কারণ পথিমধ্যে অলিগলি থেকে যোগ দেওয়া আমাদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সুতরাং এটাকে আমরা অ্যালাউ করবো না। তাই সকলের প্রতি অনুরোধ, যারা মিছিলে অংশ নেবেন তারা শুরুতে আসলে আমরা তাদের পরিচয় জানতে পারবো এবং এর মাধ্যমে মূল মিছিলে শরীক হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। মিছিলে উচ্চশব্দে যেকোনো ধরনের বাদ্যযন্ত্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ শোকের মিছিল সুতরাং যে কোনো ধরনের বাদ্যযন্ত্র উৎসব-আনন্দ নিষিদ্ধ থাকবে।’ যোগ করেন ডিএমপি কমিশনার।

কমিশনার বলেন, আপনারা জানেন এক সময় পাইকরা মিছিলে অংশ নিয়ে ব্লেড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে শোক প্রকাশ করত। এতে বিশৃংখলা ও এক ধরনের ভীতি সৃষ্টি হত। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি কোনো ধরনের পাইক মিছিলে অংশ নিতে পারবে না। মিছিল চলাকালীন সময়ে ইমামবাড়া গুলোতে আমাদের স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ডগস্কয়ার্ড দ্বারা সম্পূর্ণ সুইপিং করা হবে। নিরাপত্তা যেন বিঘ্নিত না হয় সে বিষয়টিকে মাথায় রেখে আমরা মিছিলগুলোকে পরিচালনা করব।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে কমিশনার বলেন, ‘যারা ইমাম পাড়ার মধ্যে ঢুকবেন তারা কেউ পোটলা ব্যাগ অথবা ধারালো ছুরি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। যেসব জায়গা দিয়ে মিছিলটা যাবে সেসব জায়গার ফুটপাতগুলো আমরা পরিষ্কার রাখব এবং রাস্তায় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। এরইমধ্যে আমরা সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ করেছি এবং আমাদের ক্রাইম টিমকে অনুরোধ করেছি সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণে। মিছিল চলাকালে কোনো আতশবাজি বা পটকা ব্যবহার করা যাবে না। কোনো পাঞ্জা লড়াও যাবে না। এতে বিশৃঙ্খলা হয়।

এ সময় তাজিয়া মিছিলটি নির্দিষ্ট সময়ে শুরু করে নির্দিষ্ট সময় শেষ করার জন্য আয়োজনকারীদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

সারাবাংলা/এসএইচ/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন