রবিবার ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৪ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ক্লাবে অভিযান করায় ‘মাইন্ডে’ লেগেছে হুইপ সামশুলের

সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ | ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে আবাহনী ক্লাব লিমিটেডে ‘জুয়ার আসরবিরোধী’ অভিযান চালানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী। তিনি ওই ক্লাবের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হুইপ বলেছেন, ‘অভিযানের কারণে তাদের (ক্লাবের) সম্মানহানি হয়েছে। এটা ‘মাইন্ডে লেগেছে’।”

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে টেলিফোনে সারাবাংলার সঙ্গে আলাপকালে অভিযানের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী।

হুইপ সামশুল বলেন, ‘হঠাৎ করে আবাহনী ক্লাবে ঢুকে গেল। ৪-৫ ঘণ্টা ধরে অভিযান। টেলিভিশনগুলো স্ক্রল দিচ্ছে, লাইভ দিচ্ছে। মান-ইজ্জতের ব্যাপার। কিন্তু কিছুই পাওয়া গেল না। সেখানে জুয়া খেলা হয়, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেল না। তাহলে ইন্টারন্যাশনাল একটি ক্লাবের সম্মান নিয়ে এই টানাটানি কেন? এটা তো আমাদের মাইন্ডে লেগেছে। শুধু শুধু আমাদের বেইজ্জত করার অধিকার কে দিয়েছে?’

চট্টগ্রামে ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোতে এই অভিযান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের বরখেলাপ বলেও মনে করেন এই সংসদ সদস্য।

বিজ্ঞাপন

শামসুল বলেন, ‘ঢাকায় যে অভিযান হচ্ছে সেটা ঠিক আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদকের গডফাদার, যারা ক্যাসিনো চালায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু চট্টগ্রামে কি কোনো ক্লাবে ক্যাসিনো খেলা হয়? যারা ক্লাবে বসে আড্ডা দেয়, তাস খেলে সেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান করতে কে নির্দেশ দিয়েছে? এসব ক্লাব থেকে ছোটখাট ফুটবল টিম, ক্রিকেট টিম, স্পোর্টস টিম পরিচালনা করা হয়। তাদের হ্যারাস করা হচ্ছে কেন? অভিযানের কারণে যদি খেলাধূলা বন্ধ হয়ে যায়, ছেলেপেলেরা যদি খেলতেও না পারে, তারা তো সন্ত্রাসী-ছিনতাইকারী হবে।’

অভিযান পরিচালনাকারীদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘যারা ক্যাসিনো খেলে তাদের ধরেন। ক্লাবগুলো প্রিমিয়ার লীগে খেলে। তাদের ধরছেন কেন? যারা মাদকের ব্যবসা করে তাদের ধরেন। যারা জুয়ার ব্যবসা করে তাদের ধরেন। যারা ঘুষ খায় তাদের ধরেন। সেটা না করে আপনাদের ক্লাবে ঢোকার অর্ডার কে দিয়েছে?’

তবে মহাসচিব ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেও অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন আবাহনী ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এম এ লতিফ।

চট্টগ্রামের বন্দর আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘কেউ যদি খুন করে মসজিদে গিয়ে বসে থাকে, তাকে মসজিদের ভেতর থেকে ধরে আনা উচিৎ। ক্রীড়ার নামে যদি অন্যায় কিছু হয়, সেটার বিরুদ্ধে অভিযানকে সমর্থন করি। এটাকে স্বাগত জানাই। তবে আবাহনী ক্লাবে কখনো জুয়া খেলা হয় না। অভিযানেও এমন কিছু পাওয়া যায়নি। আমি বলব, এই অভিযান শুধু ক্লাবের ভেতরে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। সব সেক্টরে কিছু দুষ্ঠু প্রকৃতির লোক আছে। তাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান হোক। এতে জনগণের সমর্থন আছে।’

শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচটি ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব ও পুলিশ। এর মধ্যে নগরীর আইস ফ্যাক্টরী রোডে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র (চট্টগ্রাম)’, হালিশহরে আবাহনী লিমিটেড এবং সদরঘাটে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে র‌্যাব অভিযান চালায়। নগরীর এস এ খালেদ রোডে ‘ফ্রেন্ডস ক্লাব’ এবং আসরকার দিঘীর পাড়ে ‘শতদল ক্লাবে’ কোতোয়ালী থানা পুলিশ অভিযান চালায়।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রে অভিযান শেষে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তিনটি ক্লাবেই জুয়ার আসর বসানোর আলামত পাওয়া গেছে এবং তিন ক্লাবের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হবে।

তবে মধ্যরাতে র‌্যাবের পক্ষ থেকে পাঠানো এক ক্ষুদেবার্তায় বলা হয়, ‘আজকের অভিযানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রে ক্যাসিনোর আইটেম পাওয়ায় নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। বাকি দুইটিতে যা পাওয়া গিয়েছে তা দিয়ে জুয়ার বিষয় প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। কোনো আসামি গ্রেফতার নেই।’

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র পরিচালনা পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে আছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সহ সাধারণ সম্পাদক মো.হারুন অর রসিদ। সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহ সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার কামাল দুলু। তবে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান ক্লাব পরিচালনা করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক।

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি শাহ আলম বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন শাহবুদ্দিন শামীম। বাবুল শিল্পপতি এবং শামীম একসময় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও এখন আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

শতদল ক্লাব ও ফ্রেন্ডস ক্লাবে অভিযানে জুয়ার আসর বসানোর আলামত মেলেনি বলে জানায় পুলিশ।

এর আগে, শুক্রবার রাতে নগরীর আলমাস সিনেমা হলের পাশে ‘হ্যাং আউট পুল এন্ড স্নোকার ক্লাব’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে টাকার বিনিময়ে পুল-স্নোকার খেলতে দেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের ছেলে ও কর্মচারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সারাবাংলা/আরডি/এমও

বিজ্ঞাপন

Tags: , , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন