বিজ্ঞাপন

‘ট্র্যাডিশনাল ওষুধের বিকাশে বেসরকারি খাতে সহায়তা করবে সরকার’

February 14, 2020 | 5:31 am

ঢাকা: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, অ্যালোপ্যাথি ওষুধের যখন বিকাশ ঘটে নি তখন থেকে বাংলাদেশসহ আশেপাশের অঞ্চলে ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন ছিল বহুল প্রচলিত। যদিও পরে অ্যালোপ্যাথি যেভাবে বড় হয়েছে, ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন সেভাবে বড় হয়নি। সরকার একা সবকিছু করতে পারে না। বেসরকারি খাত উদ্যোগ নেবে, আমরা সরকার থেকে সব ধরনের সাহায্য করব।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ‘বিমসটেক ট্র্যাডিশনাল হেলথ কেয়ার এক্সপো-২০২০’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের বেশ সুনাম আছে। দেশে ৩৬টি মেডিক্যাল কলেজ এবং চারটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। তবে শুধু মেডিক্যাল কলেজ থাকলেই হয় না, ডাক্তার, নার্স, অন্য লোকবল এবং যন্ত্রপাতি দরকার। কিন্তু তার থেকেও বেশি দরকার ওষুধ। যে ওষুধ রোগীকে দেওয়া হবে তা যেন ভাল হয়, গুণগত মানসম্পন্ন হয়। আপনারা জানেন, অ্যালোপ্যাথি মেডিসিনে আমরা ভাল করছি। তবে ট্র্যাডিশনাল মেডিসিনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বৃক্ষ নিধন রোধ এবং বনায়নের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অ্যালোপ্যাথি ওষুধের অনেক ধরনের প্বার্শ প্রতিক্রিয়া থাকে। ট্র্যাডিশনাল মেডিসিনের সেসব নেই। বিশ্বের অনেক দেশে এখন অ্যালোপ্যাথি থেকে ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন বেশি প্রেসক্রাইব করা হয়। তাই এ খাতে আরও জোর দেওয়ার সময় এখনই। তবে এর মূল কাঁচামাল গাছপালা কিন্তু সেই গাছপালা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আমাদের সবার উচিৎ বৃক্ষ নিধন রোধ করা এবং আরও বনায়নের দিকে জোর দেওয়া।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের দেশ থেকে ১৫০টিরও বেশি দেশে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ রপ্তানি হয়। তবে আয়ুর্বেদিক ওষুধের অবস্থা কী সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই। আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করতে হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জিএমপি গাইডলাইন ও স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করতে হয়। দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে, আমাদের দেশে ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন তৈরির দক্ষ লোকবল আছে কি না যারা সব নিয়ম অনুসরণ করে ওষুধ বানাতে পারে।

তিনি বলেন, সব থেকে বড় বিষয় হলো ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন খাতে উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীর অভাব রয়েছে। তবে আমরা এসব বিষয়ে কাজ করছি। জিএমপি অনুসরণ করে একটি গাইডলাইন করছি আমরা যেগুলো ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন প্রস্তুতকারকরা ইতোমধ্যে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রস্তুতকারকরা কোথা থেকে ওষুধের কাঁচামাল সংগ্রহ করছেন, সেগুলোর গুণগত মান কেমন, ওষুধের মান কেমন, সেগুলো আমরা দেখা শুরু করেছি। সবকিছু একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে কাজ করছি আমরা।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আয়োজনের মুখ্য সমন্বয়ক এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সী, বি এ এফ এর সভাপতি এ বি এম গোলাম মোস্তফা, আইসিসি এর স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগের প্রধান সুজয় ঘোষ, বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসবি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন