বিজ্ঞাপন

নমুনা নেয়নি বিমানবন্দরের ল্যাব, আবুধাবিগামী ফ্লাইট মিস ৩ জনের

October 4, 2021 | 9:39 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ফ্লাইট ছাড়ার আট ঘণ্টা আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেও আবুধাবি যেতে না পারার অভিযোগ করেছেন প্রবাসী এক বাংলাদেশি। সবকিছু ঠিক থাকলেও শুধুমাত্র বিমানবন্দরের ল্যাবে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নমুনা পরীক্ষা না করার কারণে এয়ার এরাবিয়া এয়ারলাইন্সে উঠতে পারেননি তিনিসহ তিনজন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমনে বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে এক গণশুনানিকালে এমন অভিযোগ জানান ৩২ বছর বয়সী ওই প্রবাসী বাংলাদেশি।

নাম-পরিচয় প্রকাশ না করে ওই ভুক্তভোগী জানান, তার বাড়ি কুমিল্লায়। যাবেন আবুধাবি। টিকিট কেটেছেন এয়ার এরাবিয়া এয়ারলাইন্সের। ট্রাভেল এজেন্সি আট ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর জন্য বলে দিয়েছিল। ফ্লাইট ৩ অক্টোবর রাত ২টা ৩০ মিনিটে। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টায় বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। ওই সময় তিনিসহ তিন যাত্রী একসঙ্গে ছিলেন। এরপর সন্ধ্যায় ১ নম্বর কাউন্টারে গিয়ে বলেন, এয়ার এবারিয়ার টিকিট রয়েছে, তারা আবুধাবি যাবেন। তখন সৌদি এয়ারলাইন্সের অন্য যাত্রীরা ভেতরে ঢুকছিল। এরপর ২ নম্বর এবং ৩ নম্বর কাউন্টারে গেলেও তাদের বিমানবন্দরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু কখন এয়ার এরাবিয়ার যাত্রী বিমানবন্দরে ঢুকানো হয়েছে সেটাও তারা জানেন না।

বিজ্ঞাপন

ওই যাত্রী আরও জানান, তিনি যখন বিমানবন্দরের ল্যাবে যান তখনও এয়ার এরাবিয়ার ফ্লাইট ছাড়ার প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা বাকি ছিল। কিন্তু ল্যাব থেকে বলা হয়, এখন আর করোনার টেস্ট করা যাবে না। তখন রাত ১০টা ১২ মিনিট। আর ফ্লাইট রাত ২টা ৩০ মিনিটে। এরপর কাউন্টারে গিয়ে বিষয়টি জানালে এয়ার এরাবিয়ার প্রতিনিধিও ল্যাবে গিয়ে টেস্ট করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু ল্যাবের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সেই অনুরোধ রাখেননি। এরপর রাত ১টা বেজে গেলেও যাত্রীদের করোনা টেস্ট আর হয়নি।

নমুনা নেয়নি বিমানবন্দরের ল্যাব, আবুধাবিগামী ফ্লাইট মিস ৩ জনের

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, শতবার অনুরোধ, এমনকি হাতে-পায়ে ধরেও নাকি মন গলাতে পারেননি ল্যাবে কাজ করা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের। এরপর স্বাস্থ্য বিভাগে গিয়ে কথা বললে তারা না কি উত্তেজিত হয়ে জানান, ‘আপনার কিছু বলার থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে গিয়ে অভিযোগ দেন।’ এরপর তিনি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে গিয়ে দেখেন অফিস বন্ধ। সেখানে অভিযোগ জানানোর জন্য কোনো মোবাইল নম্বরও ছিল না। এমনকি প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কে গেলেও কোনো সহায়তা পাননি বলেও জানান ওই ভুক্তভোগী যাত্রী।

তিনি আরও জানান, এরপর তারা এয়ার এবাবিয়ার অফিসে এসে আবার কথা বলেন। তখন এয়ার লাইন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, ফ্লাইটে তারা যেতে পারবেন না। তাদের টিকিটও বাতিল করা হয়েছে। আবুধাবি যেতে হলে নতুন করে আবার করোনা টেস্ট করাতে হবে এবং টিকিট কাটতে হবে। কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে তারা নতুন করে ফের টিকিট কাটেন। কিন্তু তিনি আজ ফ্লাইট ধরতে পেরেছেন কি না এখনও তা জানা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগের বিষয়ে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, ‘এটা দুঃখজনক। এমন ঘটনা ঘটবে, সেটা নিয়ে শঙ্কা আগেও ছিল।’ স্বাস্থ্য বিভাগকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন এই করোনা টেস্ট ব্যবস্থাপনা আরও সুন্দরভাবে করতে হবে।’

এ সময় যাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সময় নিয়ে বিমানবন্দরে আসতে হবে। ফ্লাইট ছাড়ার ৫ ঘণ্টা আগে আসলে ভালো। কেননা আপনি সময় মতো আসতে না পারলে এখানে কারও কিছু করার নেই। কেননা ফ্লাইট ধরার আগে অনেক কাজ রয়েছে। চেকিংয়ের পরে ইমিগ্রেশন, এরপর বোডিং করতে হয়। এছাড়াও ল্যাগেজ ব্যবস্থাপনা করে তা আবার বিমানে পাঠানো হয়। কাজেই সময় নিয়ে এলে কোনো সমস্যা হবে না।’

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বিমানবন্দরের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমাদের মিটিং হয়েছে। অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে আসতে পারে না। ফ্লাই করার ন্যূনতম (ফ্লাইট টাইমের ৫ ঘণ্টা) আগে বিমানবন্দরে আসতে না পারলে করোনা পরীক্ষা সম্ভব নয়। তবে আমরা অন্যভাবে বিষয়টি সমাধানে কাজ করছি। সেটা হলো- দ্রুততম সময়ে র‍্যাপিড পিসিআর টেস্ট। সেক্ষেত্রে যাত্রীদের খরচ পড়বে পাঁচ হাজার টাকার মতো। যারা সময়তো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারবেন না তারা দ্রুততম সময়ে টেস্টটি করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে যেতে পারবেন। এই টেস্টটির বিষয়ে এখন আলোচনা চলছে। সেটির অনুমোদন হয়ে গেলে সমস্যা থাকবে না।’

এই গণশুনানিতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক, বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, কাস্টম প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন এয়ার লাইন্সের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এসজে/এনএস/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন