বিজ্ঞাপন

এক দিনে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমলো ৮০ পয়সা

May 16, 2022 | 6:36 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আমদানি ব্যয় মেটাতে মার্কিন ডলারের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রতিনিয়ত ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে কমে যাচ্ছে টাকার মান। সোমবার (১৬ মে) এক দিনেই ডলারের বিপরীতে টাকার মান ক‌মেছে ৮০ পয়সা। অর্থাৎ এই একদিনেই টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে ৮০ পয়সা। আর সবশেষ  গত দেড় মাসে কয়েক ধাপে ডলারের দাম বেড়েছে ১ টাকা ৯০ পয়সা।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রফতানির তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এতে করে ডলারের ওপর চাপ প‌ড়ে‌ছে। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডলারের রেট ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার সরবরাহ করছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক চা‌হিদার বিপরী‌তে ব্যাংকগুলোর কাছে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করা হয়েছে। বাজারের চাহিদা মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজন অনুযায়ী ডলার সরবরাহ করছে।

বিজ্ঞাপন

রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রফতানি প্রবৃদ্ধির কারণে ডলারের বিপরীতে টাকার নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্যেও অবশ্য আশার আলো দেখছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ইদুল ফিতরের সময় দেশে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সেই সঙ্গে রফতানিও বাড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ছাড়া অন্যান্য অনেক পণ্যের আমদানিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই ডলারের বাজার স্থি‌তিশীল হ‌য়ে যা‌বে।

জানা গেছে, সবশেষ ২০ দিনের ব্যবধা‌নে তিন দফায় ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন হয় এক টাকা ৩০ পয়সা। সোমবার (১৬ মে) আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে খরচ করতে হয়েছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ডলা‌রের দাম ছিল ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও গত ১০ মে প্রতি ডলার ছিল ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা এবং ২৭ এপ্রিল এই দাম ছিল ৮৬ টাকা ২০ পয়সা। তবে সরকারিভাবে প্রতি ডলার ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা হলেও ব্যাংকগুলো নগদ ডলার বিক্রি করছে এর চেয়েও ৫ থেকে ৮ টাকা বেশি দরে। ব্যাংকের বাইরে খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলার কেনাবেচা হচ্ছে ৯২ থেকে ৯৭ টাকায়।

গত দুই বছরের ডলারের বাজারদর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায়। এ সময় মুদ্রাবাজার অনেকটাই স্থিতিশীল ছিল। ২০২১ সালের শেষের দিকে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের চাহিদা বেড়ে যেতে থাকে। ফলে কমতে শুরু করে টাকার মান।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, ২০২১ সালের ২২ আগস্ট প্রথমবারের মতো এক ডলারের দাম ৮৫ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এরপর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি ৮৬ টাকা ও গত ২৩ মার্চ আন্তঃব্যাংকে ডলারের রেট ২০ পয়সা বেড়ে হয় ৮৬ টাকা ২০ পয়সা। গত ২৭ এপ্রিল আ‌রও ২৫ পয়সা বেড়ে ডলারের রেট দাঁড়ায় ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সায়। এরপর গত ১০ মে আরও ৫ পয়সা বাড়ে ডলারের দাম। সবশেষ আজ সোমবার আরও ৮০ পয়সা বেড়ে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম গিয়ে ঠেকেছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায়।

রেকর্ড ডলার বিক্রি

বিজ্ঞাপন

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের গত ১২ মে পর্যন্ত ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক ৫০২ কোটি ডলার বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে বিক্রি করেছে। অথচ ২০২০-২১ অর্থবছরে টাকার মান ধরে রাখতে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে উল্টো ৮ বিলিয়ন বা ৮০০ কোটি ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

আমদানি ব্যয় বেড়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে রফতানি বেড়েছে ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশ। তবে একই সময়ে আমদানি বেড়েছে ৪৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রফতানি আয় হযেছে তিন হাজার ৬৬২ কোটি ডলার। একই সময়ে আমদানির পেছনে ব্যয় করতে হয়েছে ৬ হাজার ১৫২ কোটি ডলার। এই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দুই হাজার ৪৯০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ

এদিকে আমদানির ব্যয় পরিশোধ করতে ডলার ওপর চাপ পড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও চাপ পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ রেকর্ড ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল। গত ১১ মে তা কমে ৪১ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

সারাবাংলা/জিএস/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন