বিজ্ঞাপন

হজ ক্যাম্পের আইসোলেশন ইউনিটে থাকবেন চীন ফেরত বাংলাদেশিরা

January 31, 2020 | 1:15 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনাভাইরাস আতঙ্কে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে যেসব বাংলাদেশি নাগরিককে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের জন্য আশকোনার হজ ক্যাম্পে স্থাপিত ‘আইসোলেশন ইউনিটে’ রাখা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে ১৪ দিন সেখানে রাখা হবে তাদের। এরপর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে যেতে দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জের কনফারেন্স রুমে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমানও এসময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তিন মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এক বৈঠক করেন।

ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে উহান থেকে শিক্ষার্থীসহ ৩৬১ জন বাংলাদেশে আসার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। গত রাতে চীনা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- উহানে যাচ্ছে বিমানের বিশেষ ফ্লাইট, ফিরবে ৩৬১ বাংলাদেশি

দেশে ফিরলেও এসব বাংলাদেশিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চীন থেকে আসা বাংলাদেশিদের আশকোনা হজ ক্যাম্পে রাখা হবে। এরই মধ্যে হজ ক্যাম্পে আইসোলেশন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমাদের প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, বিমানের যে বিশেষ ফ্লাইট তাদের আনতে যাবে, তাতে চার-পাঁচ জন চিকিৎসক থাকবেন। তারা শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের নিয়ে আসবেন। এখানে এসেও বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে স্ক্রিনিং করা হবে। তারপর নিয়ে যাওয়া হবে হজ ক্যাম্পের আইসোলেশন ইউনিটে।

উহান থেকে যেসব বাংলাদেশি ফিরবেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, যারা ফিরছেন, তাদের পরিবারের প্রতি অনুরোধ, তারা যেন দেখা করার জন্য না আসেন। যারা ফিরছেন, তারা সুস্থ থাকলে তাদের বাসায় পাঠানো হবে।

বিজ্ঞাপন

ব্রিফিংয়ে দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। ৩৬১ জন রাতেই বাংলাদেশে আসবে। তারা আক্রান্ত কি না, সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে তাদের ১৪ দিন বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল (বৃহস্পতিবার) ফোন করেছিলেন। তিনি চীন থেকে ফেরত নাগরিকদের থাকা ও খাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা করতে বলেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী তাদের নিয়ে এতটাই ভেবেছেন যে তাদের জন্য মশারির ব্যবস্থাও করতে বলেছেন আমাকে।

বিজ্ঞাপন

ডা. এনামুর রহমান বলেন, হজক্যাম্পের আইসোলেশন ইউনিটের ব্যবস্থাপনার জন্য এরই মধ্যে চারটি কমিটি করে দিয়েছি। ৩৬১ জনের জন্য প্রতিদিন পাঁচ বেলা খাবার দেওয়া হবে। শিশু ও নারীদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থাও থাকবে।

একই ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জানান, উহান থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে শুক্রবার বিকেল ৫টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইট রওনা দেবে চীনের পথে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যসহ ৩৬১ জন ওই বিমানের ফিরতি ফ্লাইটে ফিরবেন দেশে।

এর আগে, উহানে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা চীন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে ঢাকা প্রস্তুত। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল মোমেন জানান, চীন সরকার অনুমতি দিলে এক ফ্লাইটে সব বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ফিরিয়ে আনা হবে। পরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকার উহান থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।

সারাবাংলা/এসজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন