বিজ্ঞাপন

বাথরুম নিয়ে উদ্বেগ, অফিসে ফিরছে না ১৮% কর্মী

September 22, 2021 | 4:14 pm

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছিল সারাবিশ্বেই। সংক্রমণ কমে যাওয়ায় আবার ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর অবসান ঘটেছে, শুরু হয়েছে নিয়মিত অফিস। তবে সাম্প্রতিক এক জরিপের তথ্য বলছে, যুক্তরাজ্যে অফিস খুললেও কাজে যোগ দিচ্ছেন না ১৮ শতাংশ কর্মী। আর কাজে যোগ না দেওয়ার কারণ হিসেবে তারা দায়ী করছেন বাথরুমের পরিবেশকে। আর ৬৭ শতাংশ নারীই বলছেন, অফিসের বাথরুম ব্যবহারে তারা অস্বস্তিবোধ করেন।

বিজ্ঞাপন

দ্য ডেইলি মেইলের খবর বলছে, হেলথ স্টার্টআপ দ্য গুট স্টাফের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যজুড়ে দুই হাজার প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে ওই জরিপ চালানো হয়। জরিপে অংশ নেওয়া ১৮ শতাংশই অফিস খোলার পর বাথরুমের সময়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

জরিপে অংশ নেওয়া ৫৩ শতাংশ কর্মী বলছেন, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা অফিসের চেয়ে বাইরের কোথাও বাথরুম ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এর মধ্যে ১৮ শতাংশ জানান, টয়লেট ব্যবহার করার জন্য তারা বাড়িতে গিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

কর্মজীবী নারীদেরও সমস্যাটি একইভাবে প্রভাবিত করছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭ শতাংশ নারী জানান, কর্মক্ষেত্রে বাথরুম করতে তারা অস্বস্তিবোধ করেন। আর ২৮ শতাংশ নারীকে বাথরুম ব্যবহারের জন্য অফিসের অন্য তলায় যেতে হয়েছিল। আর ১৮ শতাংশ নারী স্বীকার করেছেন, তারা সারাদিন অফিসের বাথরুমে যাননি।

নিয়োগকর্তাদের এক্ষেত্রে নাক না গলিয়ে এ সংক্রান্ত ভয় দূর করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন দ্য গুট স্টাফের প্রতিষ্ঠাতা লিসা এবং আলানা ম্যাকফারলেন।

বিজ্ঞাপন

এই জরিপ অফিসের পরিবেশ সংক্রান্ত চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। মনে করা হচ্ছে, ভবিষ্যৎ হাইব্রিড ওয়ার্কিং সিস্টেমের সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিসে গিয়ে কাজ করতে বলা হলে অন্তত অর্ধেক কর্মচারী তাদের চাকরি ছেড়ে দেবেন বলে ওই প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এদিকে, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্সের তথ্যমতে, দেশটির এক-চতুর্থাংশেরও কম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

বিজ্ঞাপন

গবেষকরা রিফাইনারি-২৯’কে বলছেন, এই জরিপের চিত্র বিব্রতবোধ করার মতোই। তবে বিব্রত না হয়ে এ থেকে চাকরিদাতাদের উচিত তাদের কর্মীদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনতে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া। তাদের এমন সব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন যাতে কর্মীরা উৎসাহিত হয়।

চিকিৎসকরা এই সমস্যার নাম দিয়েছেন পার্কোপ্রেসিস বা ‘সাই বাওয়াল সিন্ড্রোম’। এর অর্থ পাবলিক প্লেসে মলত্যাগ করার ক্ষেত্রে ভয় পাওয়াকে বোঝায়। আশ্চর্যজনকভাবে এটিকে স্বাভাবিক ঘটনা বলেছেন চিকিৎসকরা।

বিজ্ঞাপন

করোনা মাহামারির পর বাসা থেকে অফিস করার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। দেশটির মোট চাকরিজীবীদের মধ্যে ২০১৯ সালে বাসা থেকে অফিস করেছিলেন ২৭ শতাংশ, ২০২১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ৩৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

সারাবাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন