রবিবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৭ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপ বাছাই চ্যালেঞ্জ: কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ | ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ভুটান বিপর্যয়ের পর করুণ ভোগান্তিতে গেছে দেশের ফুটবল। গত বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপে ভরাডুবির পর দাঁড়াতে শিখেছে বাংলাদেশ। র‌্যাঙ্কিংয়ের তলানির মেঘ সরে সূর্যের আলোর মতো উঁকি দিচ্ছে দেশের ফুটবল। প্রথম ভোরটা আসে প্রাক বাছাই দিয়ে। প্রাক বাছাই যেন ফুলসেরাতের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল জামাল ভূঁইয়াদের জন্য। কষ্টার্জিত জয়ে বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বে নাম লেখালো বাংলাদেশ। এখন সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। তার নাম বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্ব।

বিজ্ঞাপন

বরাবরই এ পর্বতে হাঁটু কাঁপা অবস্থা বাংলাদেশের। গত বিশ্বকাপের ইতিহাসটাই টেনে আনলে বুঝতে পারবেন চ্যালেঞ্জের পরিমাপটা। আট ম্যাচে গুনে গুনে ৩২ টা গোল হজম করতে হয়েছে এমিলিদের। বিনিময়ে শোধ করতে পেরেছে মাত্র দুটি। জয়তো দূরে থাক। সেবার এমিলিরা নামের পাশে লিখতে পেরেছে মাত্র একটি ড্র।

পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটছি কেন?

তার কারণ আছে আছে অনেক। আপাতত কতটা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে আর প্রস্তুতিটা কেমন হয়েছে বাংলাদেশের সেই গল্পটা বলা যাক। অন্তত আঞ্চলিক পর্যায়ের সাফ থেকে এই যুদ্ধটা অনেক বড় সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ‘বিশ্বকাপ খেলবে বাংলাদেশ’ এমন ভাবনা হয়তো স্বপ্নেও কেউ ভাবার সাহস পাবে না দেশের বর্তমান ফুটবল প্রেক্ষাপটকে মাথায় রেখে! তারপরেও যোগ্যতার মাপকাঠিতে কতটা এগোচ্ছে বাংলাদেশ সেটার একটা পর্যালোচনা করা যাক।

ফুটবলে মানের বিচারটা হয় মূলত র‌্যাঙ্কিংয়ে। ফিফার র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বর্তমান র‌্যাঙ্কিং ১৮২। নিকট অতীতেও ডাবল সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে ছিল লাল-সবুজরা। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে এখন এই অবস্থায়। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষরা র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢের ঢের এগিয়ে। ধরাছোঁয়ার কাছে একমাত্র আছে আফগানিস্তান। তাও ৩৩ ধাপ উপরে। ১৪৯ এ। বাকীদের হিসেব করলে হয়তো আরও হতাশা চলে আসতে পারে দেশের ফুটবল সমর্থকদের। আরেক প্রতিপক্ষ ভারত তো শ’য়ের ঘরে ঘুরাঘুরি করছে। এখন ১০১ এ। ওমান আছে আরও দূরে। বাংলাদেশের ১০০ ধাপেরও উপরে। ওমানের র‌্যাঙ্কিং হলো মাত্র ৮৬। কাতারের হাতের নাগালে অনেক বাইরে। বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ এখন কাতার। র‌্যাঙ্কিংয়েও বেশ এগিয়ে। ৫৫ এ।

বিজ্ঞাপন

এখন আসা যাক প্রস্তুতিতে। প্রতিবেশী ভারতও যেখানে এ বছর ১০-১২ টা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে ফেলেছে সেখানে বাংলাদেশ মাত্র ১টি। তবে সম্প্রতি ক’দিন আগে তাজিকিস্তানের দুটি ক্লাবের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে জামাল ভূঁইয়ারা। আফগান, ওমান ও কাতার আছে প্রস্তুতি ম্যাচের উপরেই। সেখানে ঢের পিছিয়ে বাংলাদেশ।

দেশের মধ্যে সপ্তাহ খানেক ও তাজিকিস্তানের মাটিতে নয়দিন অনুশীলন সেরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের মিশনে নামতে হচ্ছে জেমি ডের শিষ্যদের। আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) পামির স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি আর কৌশলের পরীক্ষাটাই দিতে হবে জেমির ফুটবল বহরকে। অবশ্য বাস্তবতা বলছে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে আছে বাংলাদেশ। কাতারের সঙ্গে ৬-০ ব্যবধানে হারলেও শক্তি-সামর্থ্যে যে আফগানরা বেশ এগিয়ে লাল-সবুজদের থেকে। আফগানদের স্কোয়াডে থাকা ফুটবলারদের বেশিরভাগই বিদেশের লিগে খেলছে। ২৩ জন ফুটবলারের মধ্যে ২০ জনই ১৩টি দেশে খেলছে। জার্মানীসহ ১৩টি দেশের বিভিন্ন লিগে খেলে বেড়াচ্ছে আফগান ফুটবলার। বাকী তিনজন আফগান প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব ‍টুফান হারিরদে খেলছে।

সেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত জেমি ডে, ‘ছেলেরা ভালভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের প্রস্তুতি নিয়ে আমি খুশি। ফ্রেন্ডলি ম্যাচগুলোতেও তারা ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। প্রথম ম্যাচটা ভালো দলের বিপক্ষে খুব কঠিন হবে। কিন্তু আমরা সামনের দিকে তাকিয়ে আছি।’

আরেকটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে কৃত্রিম টার্ফে। দেশের ফুটবলাররা অভ্যস্ত প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠে। কৃত্রিম টার্ফের ভাবনাটাও ভোগাবে কি না জেমির কথায় তার জবাব, ‘আমি মনে করি এটা হালকা সুবিধা দিবে হোম দলের জন্য। কিন্তু এই ধরনের পিচে গত এক সপ্তাহ যাবত ছেলেরা অনুশীলন করেছে। মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে। এই পিচ থেকে সেরাটাই নেয়ার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ।’

অবশ্য আফগান বধে আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তার কণ্ঠে তেমনটাই আভাস, ‘আফগানিস্তান অনেক শক্তিশালী দল। বেশ লড়াকু একটা ম্যাচই হবে। আমরা এখানে নয়দিন থেকে আছি। ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। নিজেদের সেরাটা দিয়ে ম্যাচটা জিতে ফিরতে চাই।’

আফগানদের সঙ্গে বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা অবশ্য খুব তেতো। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ আফগানদের কাছে হেরেছে ৪-০ ব্যবধানে। কিন্তু ১৯৭৯ সালে তাদের ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল লাল-সবুজরা। যেখানে অতীতে বাকী চার ম্যাচে ড্র হয়েছে। এমন কষ্টের অতীত নিয়েই আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় আফগানদের বিপক্ষে মাঠে নামতে চলেছে জামাল ভূঁইয়ারা। দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটা কীভাবে মুখোমুখি করবে এটাই এখন দেখার বিষয়।

সারাবাংলা/জেএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন