বিজ্ঞাপন

‘আমার যাত্রা অত সহজ ছিল না, বাধা আছে এখনও’

May 16, 2022 | 5:16 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ৪১ বছর আগে বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে এসে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে সংগ্রামী পথচলার দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার যাত্রা অত সহজ ছিল না। প্রতি পদে পদে বাধা। এখনো আছে। তবে আমি সেগুলো নিয়ে চিন্তা করি না।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৬ মে) এসডিজি বাস্তবায়ন পর্যালোচনাবিষয়ক দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলন-২০২২’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রান্তে যুক্ত ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হারানো পর ছয় বছর বিদেশে নির্বাসিত থেকে দেশে ফিরে আসার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ছয়টি বছর আমরা বিদেশর মাটিতে ছিলাম। ১৯৮১ সালে আমার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, আমার বাবার হাতে গড়া দল তখন আমাকে আমার অনুপস্থিতিতে দলের সভানেত্রী নির্বাচিত করে।’

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘সেই সময় অনেক বাধা। মিলিটারি ডিক্টেটর ক্ষমতায়। আমাকে কিছুতেই দেশে আসতে দেবে না। আমি অনেক সংগ্রাম করে দেশে ফিরে আসি জনগণের সমর্থন নিয়ে। আর তখন থেকেই আমার একটা লক্ষ্যই ছিল, এই বাংলাদেশকে ঠিক যেভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণ করতে চেয়েছিলেন- সেভাবেই গড়ে তুলব।’

তিনি বলেন, ‘সেই সময় গণতন্ত্র ছিল না। মিলিটারি ডিক্টেটররা দেশ চালাত। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতো। একটার পর একটা ক্যু হত। ১৯/২০টা ক্যু হয়েছ এই বাংলাদেশে। জনগণ অবহেলিত। হয়তো মুষ্টিমেয় কিছু তোষামোদী, খোষামোদী, চাটুকারের দল ক্ষমতার বলয়ে থেকে তাদের ভাগ্য গড়েছে। কিন্তু বৃহৎ জনগোষ্ঠী সম্পূর্ণ অবহেলিত থেকেছে। আর এই অবহেলিত জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনই ছিল আমার মূল লক্ষ্য।’

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার একটাই লক্ষ্য, বাংলাদেশের যে সংবিধান স্বাধীনতার পর মাত্র নয় মাসের মধ্যে জাতির পিতা উপহার দিয়েছিলেন, সেই সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলো একে একে বাস্তবায়ন করা। এছাড়া বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবরতন করে দেশকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করাই ছিল আমার মূল লক্ষ্য।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর আমরা যে সম্মান পেয়েছিলাম, সেই সম্মান আমরা হারিয়েছিলাম ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে। সেই সম্মানকে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ। এছাড়া সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য এবং সচিব ড. মো. কাউসার আহাম্মদ এসডিজিবিষয়ক একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

সারাবাংলা/এনআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন